১। সরকারি নাম : আল মামলাকাতুল আরাবিয়্যাহ আস সৌদিয়া (কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া, রাজকীয় সৌদি আরব)
২। রাজধানী ও বৃহত্তম শহর : রিয়াদ, জনসংখ্যা ৩৭,২৪,১০০ জন (২০০৩)। অন্যান্য বড় শহর : জেদ্দা, জনসংখ্যা ২৭,৪৫,০০০ জন, মক্কা জনসংখ্যা ১৬,১৪,৮০০ জন।
৩। সরকার পদ্ধতি : রাজতন্ত্র, রাষ্ট্রপ্রধান পবিত্র মসজিদদ্বয়ের খাদেম বাদশাহ আবুদল্লাহ বিন আবদুল আজিজ।
৪। আয়তন : ২২,৪০,০০০ বর্গকিলোমিটার, ৮,২৯,৯৯৫ বর্গমাইল।
৫। ভাষা : আরবি, ইংরেজিরও প্রচলন আছে।
৬। জনসংখ্যা : ২,৮৬,৮৬,৬৩৩, জন্ম বৃদ্ধির হার ১.৮%, জন্মহার ২৮.৫/১০০০, শিশু মৃত্যুর হার ১১.৫/১০০০, গড় আয়ু ৭৬.৩, প্রতি বর্গমাইলে জনবসতির ঘনত্ব ৩৩ (২০০৯)।
৭। ধর্ম : ইসলাম, শতকরা ১০০% মুসলমান, ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর জন্মভূমি এবং ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা শরীফের অবস্খানের কারণে সৌদি আরব বিশ্বের সকল মুসলমানের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
৮। পতাকা : পতাকার রঙ সবুজ। দৈর্ঘ্যরে দুই-তৃতীয়াংশ প্রস্খ ও এতে তাওহীদের মর্মবাণী ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলূলাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকারের মাবুদ নেই মুহাম্মাদ সা: আল্লাহর রাসূল)। এ কালিমা আরবিতে উৎকীর্ণ রয়েছে। কালিমার নিচেই একটি কোষমুক্ত তরবারি অঙ্কিত রয়েছে যা দ্বারা ন্যায়বিচারকে বুঝানো হয়েছে। কালিমা তাইয়্যিবাহ উৎকীর্ণ থাকায় সৌদি আরবের পতাকা কখনো অর্ধনমিত করা হয় না। সবুজ রঙ ইসলামের ঐতিহ্যের দিকে ইঙ্গিতবহ।
৯। প্রতীক : আড়াআড়ি দু’টি তরবারির ওপর একটি খেজুরগাছ হলো সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক, খেজুর দ্বারা বোঝানো হয়েছে সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি, আর তরবারি দ্বারা ন্যায়বিচার, শক্তি ও নিরাপত্তা বুঝানো হয়েছে।
১০। আবহাওয়া : তাপমাত্রা ১২ থেকে ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওঠানামা করে, বৃষ্টিপাত বিক্ষিপ্ত ও অনিয়মিত। দীর্ঘস্খায়ী উষ্ম ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল। রাতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হন্সাস পায়। শীতকালে হালকা তুষারপাত হয়।
১১। জাতিসত্তা : আরব ৯০% আফেন্সা এশীয় ১০%।
১২। শিক্ষার হার : ৭৯% (২০০৩)।
১৩। মুদ্রা : রিয়াল, ১০০ হালালায় ১ রিয়াল (এক মার্কিন ডলার সমান ৩.৭৫ সৌদি রিয়াল)।
১৪। স্বাধীনতা : ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সব গোত্র ও প্রদেশগুলো একত্রীকরণ করা হয়। সে জন্য ২৩ সেপ্টেম্বরকেই সৌদি আরবের জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
১৫। সংবিধান : ইসলামি আইন (শরিয়া) মোতাবেক ১৯৯৩ সালে সরকারের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কিত ধারা-উপধারা সংযোজন করা হয়েছে।
১৬। বিচার ব্যবস্খা ইসলামি আইন অনুযায়ী করা হয়। কিছু ধর্মনিরপেক্ষ ধারা-উপধারা সংযোজিত হয়েছে। বাণিজ্যিক বিষয়াদি বিশেষ কমিটি কর্তৃক নিষ্পত্তি করা হয়।
১৭। প্রশাসনিক এলাকা : সৌদি আরবে ১৩টি প্রশাসনিক এলাকা আছে।
(ক) রিয়াদ (খ) পবিত্র মদিনা (গ) পূর্বাঞ্চল (আশ শারকিয়া) (ঘ) তাবুক (ঙ) পবিত্র মক্কা (চ) আল কাছিম (ছ) আছির (জ) হাইল (ঝ) উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চল (আল হুদুদ আশ শিমালিয়া) (ঞ) জাযান (ট) নাজরান (ঠ) আলবাহা (ড) আল জাওফ।
১৮। শিক্ষা : সৌদি আরব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সকল নাগরিকের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা। বর্তমানে সৌদি আরবের বাজেটের ২৫% এ খাতের জন্য নির্ধারিত। বর্তমানে সৌদিতে চালু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : ক. বিশ্ববিদ্যালয়-২০টি, খ. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২টি
গ. কলেজ-১০৫টি তন্মধ্যে মহিলা কলেজ ১১টি। ঘ. বিদ্যালয় ৩৫,০০০টি।
২০০৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ৫৮,০০,০০০ ছাত্রছাত্রী শিক্ষারত তন্মধ্যে ৬,০৪,০০০ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৫৮,০০০ কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষারত ৮৮,০০০ ব্যক্তি গণস্বাক্ষরতা শিক্ষাকার্যক্রমের সাথে জড়িত। সকল পর্যায়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৪,৫৭,৮৯৮ জন।
২০০৮ শিক্ষাবর্ষে সৌদি আরবের ৫০ হাজারের অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বিদেশে শিক্ষারত অবস্খায় আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যাধুনিক শিক্ষা উপকরণ দ্বারা সুসজ্জিত ও শিক্ষার মান উন্নয়নে চেষ্টারত। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর বেশ সংখ্যক ছাত্র সৌদি আরবে অধ্যয়ন করতে যায়।
১৯। স্বাস্খ্য : স্বাস্খ্য খাতে মাথাপিছু ব্যয় বিশ্বের সর্বোচ্চ। বিদেশীসহ সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্খা রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে-
হাসপাতাল সংখ্যা : ৩১৩টি, শয্যা সংখ্যা : ৪৫,৫০০, চিকিৎসকের সংখ্যা : ৩০,৭০০, প্রাথমিক স্বাস্খ্যকেন্দ্র : ৩,১৩০টি (২০০৮)।
২০। মোট জাতীয় আয় : বৃদ্ধির হার ১৩.৫% (২০০৮)।
২১। মাথাপিছু আয় : সৌদি রিয়াল ৩৫,০০০ (৯,৫০০ মার্কিন ডলার)।
২২। শিল্প : ২০০৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩০০ বিলিয়নের অধিক সৌদি রিয়াল ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩,৭৮৫টি শিল্প ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যাতে বর্তমানে ৩,৫০,০০০ জন শ্রমিক কর্মরত আছে।
২৩। কৃষি : মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৪৫ লাখ হেক্টর, চাষাবাদের আওতায় ২৯ লাখ হেক্টর, চারণভূমি ৪ কোটি ৮০ লাখ হেক্টর। প্রধান ফসল খেজুর যার বার্ষিক উৎপাদন ৫ লাখ টন। এক হিসাবে দেখা গেছে, মাথাপিছু ২৯ কেজি করে খেজুর উৎপাদিত হয়, বর্তমানে খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সারাদেশে ৪০টি কারখানা রয়েছে। তা ছাড়াও বছরে প্রায় ৪০ লাখ টন গম উৎপাদন হয়। পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যশস্য আলু, ফল-ফলাদি ও শাকসবজি বিপুল পরিমানে উৎপাদি হয়।
২৪। বিদ্যুৎ : ষষ্ঠ উন্নয়ন পরিকল্পনা (১৯৯৬-২০০০) সাল শেষে দেশের ৯০ ভাগ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে।
২৫। পর্যটন : আকর্ষণীয় স্খানগুলোর মধ্যে রয়েছে : তায়েফ, আলশিফা, আলহাদা, আলবাহা, আবহা, খামিস মুশাইয়াত, আলনামাছ, আলআহসা।
এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলে রয়েছে আকর্ষণীয় হাফ মুন বিচ, যা অর্ধচন্দ্রাকৃতীয় সমুদ্রসৈকত এবং বন্দরনগরী জেদ্দার অভূতপূর্ব প্রবাল প্রাচীর ও দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত।
২৬। খনিজ ও খনন : অশোধিত তেলের মোট মজুদ ২৬০ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুদের এক-চতুর্থাংশ। মোট গ্যাসের মজুদ ১৮০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সৌদি আরবে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ হিসেবে বিশ্বে চতুর্থ।
অন্যান্য খনিজদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে : খনিজ সিসা, নিকেল, দস্তা, সোনা, টিন ও টাংস্টোন, লোহা, তামা, ইউরেনিয়াম, ফসফেট, বক্সাইট, পটাশিয়াম, গ্রানাইট ও মার্বেল।
২৭। রফতানি : সৌদি আরব তার রফতানি আয়ের ৯০% তেল ও তেলজাত দ্রব্য থেকে অর্জন করে, যা তার জাতীয় বাজেটের ৭৫%। এ ছাড়াও পেট্রোরসায়ন, সার, ধাতব পদার্থ, গম, সিমেন্ট, নির্মাণসামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য।
২০০৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে যে, সৌদি আরব এশিয়ান দেশের নিকট ৪৯.৯%, উত্তর আমেরিকা ১৫.৮%, পশ্চিম ইউরোপ ১৩.৩%, জিসিসি দেশসমূহে ৭.৪%, আরবলিগের দেশসমূহে ৫.৩% দ্রব্যাদি রফতানি করেছে।
২৮। আমদানি : বিদ্যুৎ সামগ্রী গৃহস্খালি আসবাবপত্র, বস্ত্র, মসলা, রেশমীদ্রব্য, কাটলারিজ, অলঙ্কার আমদানি করে। সৌদি আরব ২০০৬ সালে নিুোক্ত দেশগুলো থেকে বিভিন্ন জিনিস আমদানি করে-
আমেরিকা : ১৪.৫%, চায়না : ৮.৬%, জার্মানি : ৮.১%, জাপান : ৮.১%, ইতালি : ৪%, ব্রিটিশ : ৩.৯%, ফন্সান্স : ৩.৯%, উত্তর কোরিয়া : ৩.৮%, ভারত : ৩.৮%।
২৯। পরিবহন ও যোগাযোগ : পরিবহন খাতে সৌদি আরব খুবই সমৃদ্ধ।
বিমানবন্দর ২৬টি তন্মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক : ১) জেদ্দা, ২) রিয়াদ, ৩) দাম্মাম, ৪) মদিনা ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর ২২টি। সৌদি আরবে বর্তমানে রেললাইন ১৩৯২ কিমি (২০০২)
মহাসড়ক ১,৫১,৪৭০ কিমি তন্মধ্যে পাকা সড়ক ৪৫.৫৯২, কাঁচা সড়ক ১০৫.৮৭৮ কিমি.
বন্দর ও পোতাশ্রয় : ১। দাম্মাম ২। আলজুবাইল ৩। দুবা ৪। জেদ্দা ৫। জিজান ৬। রাবিগ ৭। রাসআলখাফজি ৮। রাসআততাননুরা ৯। মিছহাব ১০। ইয়াম্বুল আলবাহর ১১। মদিনাতুল ইয়াম্বু আল ছিনাইয়াহ
৩০। গণমাধ্যম : বহুল প্রচারিত দৈনিক ১১টি : ১। আল রিয়া ২। আল জাজিরা ৩। ওকাজ ৪। আল ওয়াতন ৫। আল ইকতিছাদিয়া ৬। আমদিনা ৭। আল ইয়াওম ৮। আল রিয়াদিয়া ৯। আল রিয়াদা ১০। আশশারফ আওমাত ১১। আল হায়াত। এ ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্খ্য, ওষুধ, খেলাধুলা, নারী ও সামাজিক বিষয়ের ওপর অসংখ্য ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়।
রেডিও স্টেশন : এএম ৪৩, এফএম ৩১, সটওয়েব ২ (১৯৯৮)।
টিভি সম্প্রচার কেন্দ্র ১১৭ (১৯৯৭), ডাকঘর ৬৮৩, ট্যালেক্স ৩০,০০০ (২০০৮)। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী সংস্খা ২২।
৩১। গণযোগাযোগ : ফিক্সড টেলিফোন : ৩.৯ মিলিয়ন (২০০২), মোবাইল ফোন : ২.৯ মিলিয়ন (২০০২) রেডিও সেট : ৬.২৫ মিলিয়ন (১৯৯৭), টেলিভিশন : ৫.০১ মিলিয়ন (২০০২), কম্পিউটার : ৪ মিলিয়ন, ইন্টারনেট ব্যবহারহারী : ১.৪৫৩ মিলিয়ন (২০০২)।
৩২। বাঁধ : মরুধূসর সৌদি আরব পানি সংরক্ষণের জন্য সারাদেশে ২৩০টি বাঁধ নির্মাণ করছে। যার দ্বারা ৮৫০ মিলিয়ন ঘনমিটার সংরক্ষণ করা যায়। বিশা ও নাজকরান বাঁধ সর্ববৃহৎ।
৩৩। লবণ বিযুক্তকরণ প্রকল্প : সারাদেশে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য ২৭টি প্রকল্প বিদ্যমান, যা দৈনিক ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি উৎপাদনে সক্ষম।
৩৪। ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্খান : প্রত্নতত্ত্ব সমৃদ্ধ এলাকা ১। মদিনা মুনাওয়ারা ২। আল-আউলা ৩। মাদায়েন সালেহ ৪। নাজরান ।
৩৫। দুই পবিত্র মসজিদের উন্নয়ন : ৭০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল ব্যয়ে মক্কা ও মদিনায় ২টি পবিত্র মসজিদের উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে।
১৯৯৫ সালে সমাপ্ত ফাহদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফলে ২টি মসজিদের আয়তন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার। ফলে একসঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ লোক একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে।
৩৬। ২০০৮ সালের মানবিক সাহায্য ফান্ডে সর্বোচ্চ ২০টি দাতা দেশগুলোর দানের জিডিপি’র হারে দেখা যায় যে, সৌদি আরব শীর্ষে রয়েছে। উহার সাহায্যের হার ০.১৯০৫%।
Showing posts with label বিবিধ. Show all posts
Showing posts with label বিবিধ. Show all posts
সৌদি আরব : উন্নয়নের এক শ’ বছর
Labels:
বিবিধ
/
১৩১৯ হিজরির ৫ শাওয়াল মোতাবেক ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে ১৬ জানুয়ারি মরহুম বাদশাহ আবদুল আজিজ কর্তৃক রিয়াদ পুনর্দখলের দিন থেকে পরবর্তী এক শ’ বছরে সৌদি আরব অব্যাহত উন্নয়ন ও গঠনমূলক পরিবর্তনের এক বিস্ময়কর ঘটনাপুঞ্জি প্রত্যক্ষ করেছে। ঐতিহাসিক এই অবিস্মরণীয় বিজয়ের প্রথম কাáিক্ষত ফসল ছিল দ্বিধাবিভক্ত আরব উপদ্বীপকে একীভূতকরণের এক জটিল ও কঠিন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং পরে ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা। ইসলামি ঐতিহ্য ও মূলনীতির ভিত্তিতে একটি আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাদশাহ আবদুল আজিজ পরস্পরবিচ্ছিন্ন অশান্ত আরব উপদ্বীপে শান্তি ও স্খিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন এবং এই শান্তি ও স্খিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজ দেশকে তিনি সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে পরিচালিত করেন। যে সমাজ শত শত বছর কোনো পরিবর্তনের মুখ দেখেনি এবং পুরনো কৃষিপদ্ধতি ও খুব সীমিত ব্যবসার কথা ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারত না সেই সমাজটি আজ কৃষি, শিল্প, স্বাস্খ্য ও আধুনিক জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের একটি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত এক শ’ বছরে সৌদি আরব একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বসমাজে নিজের জন্য একটি সম্মানজনক স্খান করে নিতে পেরেছে। বর্তমানে এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে শান্তি ও সহযোগিতার বাণী প্রচার এবং সঙ্কটে মধ্যস্খতাকারী হিসেবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ
উন্নয়নের পথে সৌদি আরবের অব্যাহত অগ্রগতি একটি প্রণিধানযোগ্য ও উল্লেখযোগ্য বাস্তবতা। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়িত। বাদশাহ আবদুল আজিজ ও তার উত্তরসূরি পুত্রদের সউদ, ফয়সল, খালিদ ও ফাহাদ সবাই একটি অতি সাধারণ নীতি অনুসরণ করে এসেছেন। তা হলো, জনগণই দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং সরকারের কর্তব্য সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য সুলভ করে দেয়া যেন তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। অতীতে হাজীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফি সৌদি আরবের পশ্চিম অংশ হিজাজের শাসকদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। ১৯২৬ সালে হিজাজ দখলে আসার পর বাদশাহ আবদুল আজিজ এই মূল নীতি তৈরি করলেন যে, সৌদি আরব হাজীদের সেবা করবে এবং সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ভার হাজীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না। সৌভাগ্যক্রমে, সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যে খননকাজের ফলে দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেলের বিপুল মজুদ আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কৃত তেলের এই বিপুল মজুদ সৌদি আরবের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করে। সৌদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবিদরা প্রাপ্ত তেলের এ বিপুল ভাণ্ডারকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করলেন এবং একে উন্নয়নের অন্যান্য খাতের মূলধন হিসেবে কাজে লাগালেন, যাতে একদিন এসব খাতও তেল খাতের মতো অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎসে উন্নীত হতে পারে। জাতীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’ তেল খাতের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎপাদন, পরিশোধন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের এক বিরাট ও ব্যাপকভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। সৌদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় জাতীয় সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি অর্জনের জন্য এবং একটি সফল অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপন্ন ও সেবার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হওয়া। এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানির সক্ষমতা অর্জন করা।
পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরবর্তী চার দশক উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পর সৌদি আরব উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রম করে। ১৯৭০ সাল থেকে দেশে পঞ্চ-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উন্নততর পর্যায়ে প্রবেশ করে। উন্নয়নের পথে সমন্বয়, ধারাবাহিকতা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে গৃহীত প্রতিটি পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনাই ছিল পরবর্তীটির ভিত্তি। অবশ্য আশি ও নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্ধারিত হয় জাতীয় অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও বেসরকারীকরণ। বেসরকারি খাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠান স্খাপন করলেন, যার লক্ষ্য ছিল শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিনিয়োগ সুবিধার সৃষ্টি।
উন্নয়নের এক শ’ বছর
বিদ্যমান খাতগুলোকে সম্প্রসারিত করার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা ও কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। ১৯৯৭ সাল নাগাদ এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতে ৭২.৮ বিলিয়ন ডলারেরও অধিক প্রদান করে। এগুলোসহ অন্যান্য কর্মসূচির ফলে ১৯৭০ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত সময়ে সৌদি আরবের মোট স্খানীয় উৎপাদন (জিডিপি) সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪৪.৮২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ১৪৫.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়কালে জিডিপিতে তেলবহির্ভূত খাতের অংশ ৪১.১ থেকে ৬৫.২%-এ উন্নীত হয়। একবিংশ শতাব্দীতে অর্জিত আর্থসামাজিক অগ্রগতির এই ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষা খাতে দেশটির ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। ১৯৩২ সালে আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠালগ্নে সাধারণ শিক্ষা বলতে ছিল শহর এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্খাপিত কিছুসংখ্যক ধর্মীয় শিক্ষালয়। বর্তমানে সৌদি আরবের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০টিরও অধিক ফ্যাকাল্টিতে এবং ২২ হাজার ৩০০ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ সম্পূর্ণ অবৈতনিক। এই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বর্তমানে ৪৫ লাখের অধিক।
অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি
জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সৌদি আরবে অনুরূপ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সৌদি আরবে ১৯৩২ সালে চিকিৎসাসেবা বলতে তেমন কিছুই ছিল না। সেখানে বর্তমানে দেশটিতে আধুনিক চিকিৎসাসেবার সব সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি বিদ্যমান। শিল্পের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে শিল্পকারখানার সংখ্যা তিন হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। যেগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা দুই লাখ ৮০ হাজার। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ও রফতানির জন্য এসব কারখানায় বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদিত হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের ১১৮টি দেশে প্রায় ২৩ বিলিয়ন রিয়াল বা ৬.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সৌদি উৎপাদিত দ্রব্য রফতানি করা হয়। যোগাযোগের জন্য দেশটিতে রয়েছে হাজার হাজার মাইলের সেকেন্ডারি রোড, একাধিক সমুদ্রবন্দর এবং বহুসংখ্যক বিমানবন্দর। সৌদি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দেশের পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি, শিল্প ও নাগরিকদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য পানি সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে দেশটিতে রয়েছে ১৮৪টি বাঁধ যেগুলোর মোট পানি ধারণক্ষমতা ২৭.৩ বিলিয়ন ঘনফুট। তা ছাড়া রয়েছে প্রতিদিন ৫২০ মিলিয়ন গ্যালন পানীয়জল সরবরাহের জন্য ৩৩টি লবণ-বিমুক্তকরণ কারখানা। কৃষি খাতই হচ্ছে সৌদি আরবে পানি ব্যবহারের সর্ববৃহৎ খাত বর্তমানে যার বার্ষিক উৎপাদন ৩০ লাখ টন শস্যদানা, ২৫ লাখ ৯০ হাজার টন সবজি, ১১ লাখ ৫০ হাজার টন ফল, তিন লাখ ৯৭ হাজার টন হাঁসমুরগি, ১৫৭ হাজার টন লাল গোশত এবং আট লাখ ১৬ হাজার টন গবাদিপশুজাত উৎপন্ন দ্রব্য।
প্রভাবশালী বিশ্বশক্তি
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরব বর্তমানে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরবের গুরুত্বের অন্যতম কারণ ইসলামের জন্মস্খান এবং দুই পবিত্র স্খান মক্কা মুকাররামা ও মদিনা মুনাওয়ারার দেশ হিসেবে বিশ্বের ১০০ কোটি মুসলমানের মধ্যে দেশটির বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্খান। অন্য দু’টি কারণের একটি হলো সৌদি সরকারের স্খিতিশীলতা ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং অপরটি প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের সাথে দেশটির বìধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ইসলামি মূলনীতি ও সমৃদ্ধ আরবীয় ঐতিহ্যের ধারক সৌদি আরব বিশ্বের দরবারে সঠিকভাবেই তার মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ, আরব লিগ, ওআইসি, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্খার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সৌদি আরব মানবজাতির অব্যাহত উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। লেবানন, আফগানিস্তান ও বসনিয়ায় শান্তি স্খাপনসহ বিশ্বের অনেক সঙ্কট নিরসনে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আরব-ইসরাইল সমস্যা সমাধান এবং কুয়েতকে ইরাকি আগ্রাসনমুক্ত করার ক্ষেত্রেও সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তা ছাড়া মানুষের সৃষ্ট বিপদ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মনুষ্যসমাজকে রক্ষার জন্য বরাবর অকাতরে অর্থসম্পদ ব্যয় করে আসছে ও জনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে এসেছে। অন্যান্য দেশের উন্নয়ন সহায়তায় সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৮ হাজার কোটি ডলারেরও অধিক সাহায্য প্রদান করেছে।
সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ
উন্নয়নের পথে সৌদি আরবের অব্যাহত অগ্রগতি একটি প্রণিধানযোগ্য ও উল্লেখযোগ্য বাস্তবতা। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়িত। বাদশাহ আবদুল আজিজ ও তার উত্তরসূরি পুত্রদের সউদ, ফয়সল, খালিদ ও ফাহাদ সবাই একটি অতি সাধারণ নীতি অনুসরণ করে এসেছেন। তা হলো, জনগণই দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং সরকারের কর্তব্য সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য সুলভ করে দেয়া যেন তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। অতীতে হাজীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফি সৌদি আরবের পশ্চিম অংশ হিজাজের শাসকদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। ১৯২৬ সালে হিজাজ দখলে আসার পর বাদশাহ আবদুল আজিজ এই মূল নীতি তৈরি করলেন যে, সৌদি আরব হাজীদের সেবা করবে এবং সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ভার হাজীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না। সৌভাগ্যক্রমে, সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যে খননকাজের ফলে দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেলের বিপুল মজুদ আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কৃত তেলের এই বিপুল মজুদ সৌদি আরবের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করে। সৌদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবিদরা প্রাপ্ত তেলের এ বিপুল ভাণ্ডারকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করলেন এবং একে উন্নয়নের অন্যান্য খাতের মূলধন হিসেবে কাজে লাগালেন, যাতে একদিন এসব খাতও তেল খাতের মতো অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎসে উন্নীত হতে পারে। জাতীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’ তেল খাতের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎপাদন, পরিশোধন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের এক বিরাট ও ব্যাপকভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। সৌদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় জাতীয় সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি অর্জনের জন্য এবং একটি সফল অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপন্ন ও সেবার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হওয়া। এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানির সক্ষমতা অর্জন করা।
পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরবর্তী চার দশক উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পর সৌদি আরব উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রম করে। ১৯৭০ সাল থেকে দেশে পঞ্চ-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উন্নততর পর্যায়ে প্রবেশ করে। উন্নয়নের পথে সমন্বয়, ধারাবাহিকতা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে গৃহীত প্রতিটি পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনাই ছিল পরবর্তীটির ভিত্তি। অবশ্য আশি ও নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্ধারিত হয় জাতীয় অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও বেসরকারীকরণ। বেসরকারি খাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠান স্খাপন করলেন, যার লক্ষ্য ছিল শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিনিয়োগ সুবিধার সৃষ্টি।
উন্নয়নের এক শ’ বছর
বিদ্যমান খাতগুলোকে সম্প্রসারিত করার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা ও কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। ১৯৯৭ সাল নাগাদ এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতে ৭২.৮ বিলিয়ন ডলারেরও অধিক প্রদান করে। এগুলোসহ অন্যান্য কর্মসূচির ফলে ১৯৭০ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত সময়ে সৌদি আরবের মোট স্খানীয় উৎপাদন (জিডিপি) সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪৪.৮২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ১৪৫.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়কালে জিডিপিতে তেলবহির্ভূত খাতের অংশ ৪১.১ থেকে ৬৫.২%-এ উন্নীত হয়। একবিংশ শতাব্দীতে অর্জিত আর্থসামাজিক অগ্রগতির এই ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষা খাতে দেশটির ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। ১৯৩২ সালে আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠালগ্নে সাধারণ শিক্ষা বলতে ছিল শহর এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্খাপিত কিছুসংখ্যক ধর্মীয় শিক্ষালয়। বর্তমানে সৌদি আরবের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০টিরও অধিক ফ্যাকাল্টিতে এবং ২২ হাজার ৩০০ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ সম্পূর্ণ অবৈতনিক। এই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বর্তমানে ৪৫ লাখের অধিক।
অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি
জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সৌদি আরবে অনুরূপ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সৌদি আরবে ১৯৩২ সালে চিকিৎসাসেবা বলতে তেমন কিছুই ছিল না। সেখানে বর্তমানে দেশটিতে আধুনিক চিকিৎসাসেবার সব সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি বিদ্যমান। শিল্পের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে শিল্পকারখানার সংখ্যা তিন হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। যেগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা দুই লাখ ৮০ হাজার। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ও রফতানির জন্য এসব কারখানায় বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদিত হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের ১১৮টি দেশে প্রায় ২৩ বিলিয়ন রিয়াল বা ৬.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সৌদি উৎপাদিত দ্রব্য রফতানি করা হয়। যোগাযোগের জন্য দেশটিতে রয়েছে হাজার হাজার মাইলের সেকেন্ডারি রোড, একাধিক সমুদ্রবন্দর এবং বহুসংখ্যক বিমানবন্দর। সৌদি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দেশের পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি, শিল্প ও নাগরিকদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য পানি সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে দেশটিতে রয়েছে ১৮৪টি বাঁধ যেগুলোর মোট পানি ধারণক্ষমতা ২৭.৩ বিলিয়ন ঘনফুট। তা ছাড়া রয়েছে প্রতিদিন ৫২০ মিলিয়ন গ্যালন পানীয়জল সরবরাহের জন্য ৩৩টি লবণ-বিমুক্তকরণ কারখানা। কৃষি খাতই হচ্ছে সৌদি আরবে পানি ব্যবহারের সর্ববৃহৎ খাত বর্তমানে যার বার্ষিক উৎপাদন ৩০ লাখ টন শস্যদানা, ২৫ লাখ ৯০ হাজার টন সবজি, ১১ লাখ ৫০ হাজার টন ফল, তিন লাখ ৯৭ হাজার টন হাঁসমুরগি, ১৫৭ হাজার টন লাল গোশত এবং আট লাখ ১৬ হাজার টন গবাদিপশুজাত উৎপন্ন দ্রব্য।
প্রভাবশালী বিশ্বশক্তি
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরব বর্তমানে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরবের গুরুত্বের অন্যতম কারণ ইসলামের জন্মস্খান এবং দুই পবিত্র স্খান মক্কা মুকাররামা ও মদিনা মুনাওয়ারার দেশ হিসেবে বিশ্বের ১০০ কোটি মুসলমানের মধ্যে দেশটির বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্খান। অন্য দু’টি কারণের একটি হলো সৌদি সরকারের স্খিতিশীলতা ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং অপরটি প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের সাথে দেশটির বìধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ইসলামি মূলনীতি ও সমৃদ্ধ আরবীয় ঐতিহ্যের ধারক সৌদি আরব বিশ্বের দরবারে সঠিকভাবেই তার মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ, আরব লিগ, ওআইসি, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্খার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সৌদি আরব মানবজাতির অব্যাহত উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। লেবানন, আফগানিস্তান ও বসনিয়ায় শান্তি স্খাপনসহ বিশ্বের অনেক সঙ্কট নিরসনে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আরব-ইসরাইল সমস্যা সমাধান এবং কুয়েতকে ইরাকি আগ্রাসনমুক্ত করার ক্ষেত্রেও সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তা ছাড়া মানুষের সৃষ্ট বিপদ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মনুষ্যসমাজকে রক্ষার জন্য বরাবর অকাতরে অর্থসম্পদ ব্যয় করে আসছে ও জনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে এসেছে। অন্যান্য দেশের উন্নয়ন সহায়তায় সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৮ হাজার কোটি ডলারেরও অধিক সাহায্য প্রদান করেছে।
জমি কিনতে জেনে রাখুন
Labels:
বিবিধ
/
একখন্ড জমি কেনার সামর্থ্য থাকলেও সব জায়গায় জমি কেনা, বিশেষ করে শহর, উপশহর বা আশপাশের এলাকায় জমি কেনা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জমি ক্রয়-বিক্রয়ে দালাল-টাউট-বাটপারদের প্রতারণা পদে পদে। এদের রসাল কথা, বেশি দামি জমি কম দামে কিনে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করার মিথ্যা তাড়না ইত্যাদি রকমের বিভ্রান্তিতে পড়ে জমি ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতারা প্রায়ই প্রবঞ্চিত হন। অনেক সময় জমি কিনে নামজারি করে দখল নিতে গিয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল পর্যন্ত হতে হয়। ফলে তখন মামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। অথচ জমি কেনার সময় যদি কিছু বিষয়ের প্রতি ভালোভাবে নজর থাকে, তাহলে খুব সহজেই জমিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।
ভুমি-সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ
১. জমি কেনার সময় ক্রেতাকে অবশ্যই জরিপের মাধ্যমে প্রণীত খতিয়ান ও নকশা যাচাই করতে হবে।
২. জমির তফসিল (মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমাণ) জানতে হবে।
৩. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিএস, এসএ, আরএসসহ সর্বশেষ জরিপের পরচা দেখতে হবে।
৪. বিক্রেতা ক্রয়সুত্রে মালিক হলে তাঁর মালিকানার যোগসুত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
৫. বিক্রেতা উত্তরাধিকারসুত্রে মালিক হলে পূর্বমালিকানা ক্রমান্বয়ে মেলাতে হবে।
৬. উত্তরাধিকারসুত্রের জমির ক্ষেত্রে বণ্টননামা (ফারায়েজ) দেখতে হবে।
৭. জরিপ চলমান এলাকায় জমি কেনার সময় বিক্রেতার মাঠপরচা যাচাই করে দেখতে হবে। মাঠপরচার মন্তব্য কলামে কিছু লেখা আছে কি না তা ভালো করে দেখতে হবে। যেমন AD লেখা থাকলে বুঝতে হবে, অত্র খতিয়ানের বিরুদ্ধে তসদিক পর্যায়ে (Dispute in Attestation Stage) আপত্তি আছে। এ ক্ষেত্রে জরিপ অফিস বা ক্যাম্পে গিয়ে পরচাটির সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে হবে।
৮. বিক্রেতার দেওয়া দলিল, ভায়া দলিল, খতিয়ান, পরচা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিসে গিয়ে স্বত্বলিপির (২ নম্বর রেজিস্টার) সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. নামজারি পরচা, ডিসিআর খাজনার দাখিলা (রসিদ) যাচাই করে দেখতে হবে। বকেয়া খাজনাসহ জমি কিনলে বকেয়া খাজনা পরিশোধের সব দায় ক্রেতাকে বহন করতে হবে।
১০. জমিটি সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত কি না তা সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিস থেকে জেনে নিতে হবে। কারণ সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি বিক্রিযোগ্য নয়।
১১. জমিটি খাস, পরিত্যক্ত বা অর্পিত (ভিপি) কি না কিংবা অধিগ্রহণকৃত বা অধিগ্রহণের জন্য নোটিশকৃত কি না, তা ইউনিয়ন ও উপজেলা ভুমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের অফিসের এলএ শাখা থেকে জেনে নিতে হবে।
১২. বিবেচ্য জমি কোনো আদালতে মোকদ্দমাভুক্ত কি না তা জেনে নিতে হবে।
১৩. জমিটি সরেজমিনে দেখে এর অবস্থান নকশার সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রেতার দখল নিশ্চিত হতে হবে।
১৪. সরকার-নির্ধারিত ফি দিয়ে স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এবং জেলা রেজিস্ট্রারের অফিসে তল্লাশি দিয়ে বিবেচ্য জমির হেবা, এওয়াজ ও বেচাকেনার সর্বশেষ তথ্য জেনে নিতে হবে।
১৫. প্রস্তাবিত জমিটি ঋণের দায়ে কোনো ব্যাংক বা সংস্থার কাছে দায়বদ্ধ কি না তা নিশ্চিত হতে হবে।
১৬. প্রস্তাবিত জমিতে যাতায়াতের রাস্তা আছে কি না তাও দেখতে হবে।
১৭. কোনো কোনো এলাকার জমিতে সরকারি কিছু বিধিনিষেধ থাকে; যেমন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার আড়াইশপ্রসাদ, বনখরিয়া, বিশিয়া কুড়িবাড়ি, বারইপাড়া, উত্তর সালনা, বাউপাড়া, বাহাদুরপুর ও মোহনা ভবানীপুর মৌজাসমূহের ব্যক্তিমালিকানাধীন বা সরকারি জমিতে শিল্প, কারখানা, পাকা ইমারতসহ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, কৃষি, দুগ্ধ ও মৎস্য খামার ইত্যাদি স্থাপন না করার জন্য একটি পরিপত্র জারি করা আছে। এসব বিষয়ে আগেই খোঁজখবর নিয়ে জমি কেনা উচিত।
১৮. মালিক কাউকে আমমোক্তারনামা বা অ্যাটর্নি নিয়োগ করেছেন কি না তাও দেখতে হবে।
১৯. জমির কাগজপত্রের শুদ্ধতা যাচাইয়ের দায়িত্ব যেকোনো আইনজীবীকে দিয়ে করালে তাঁর কাছ থেকে নিজে জমির অবস্থাবিষয়ক তথ্য ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।
লেখক "" আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট।
ভুমি-সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ
১. জমি কেনার সময় ক্রেতাকে অবশ্যই জরিপের মাধ্যমে প্রণীত খতিয়ান ও নকশা যাচাই করতে হবে।
২. জমির তফসিল (মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমাণ) জানতে হবে।
৩. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিএস, এসএ, আরএসসহ সর্বশেষ জরিপের পরচা দেখতে হবে।
৪. বিক্রেতা ক্রয়সুত্রে মালিক হলে তাঁর মালিকানার যোগসুত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
৫. বিক্রেতা উত্তরাধিকারসুত্রে মালিক হলে পূর্বমালিকানা ক্রমান্বয়ে মেলাতে হবে।
৬. উত্তরাধিকারসুত্রের জমির ক্ষেত্রে বণ্টননামা (ফারায়েজ) দেখতে হবে।
৭. জরিপ চলমান এলাকায় জমি কেনার সময় বিক্রেতার মাঠপরচা যাচাই করে দেখতে হবে। মাঠপরচার মন্তব্য কলামে কিছু লেখা আছে কি না তা ভালো করে দেখতে হবে। যেমন AD লেখা থাকলে বুঝতে হবে, অত্র খতিয়ানের বিরুদ্ধে তসদিক পর্যায়ে (Dispute in Attestation Stage) আপত্তি আছে। এ ক্ষেত্রে জরিপ অফিস বা ক্যাম্পে গিয়ে পরচাটির সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে হবে।
৮. বিক্রেতার দেওয়া দলিল, ভায়া দলিল, খতিয়ান, পরচা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিসে গিয়ে স্বত্বলিপির (২ নম্বর রেজিস্টার) সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. নামজারি পরচা, ডিসিআর খাজনার দাখিলা (রসিদ) যাচাই করে দেখতে হবে। বকেয়া খাজনাসহ জমি কিনলে বকেয়া খাজনা পরিশোধের সব দায় ক্রেতাকে বহন করতে হবে।
১০. জমিটি সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত কি না তা সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিস থেকে জেনে নিতে হবে। কারণ সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি বিক্রিযোগ্য নয়।
১১. জমিটি খাস, পরিত্যক্ত বা অর্পিত (ভিপি) কি না কিংবা অধিগ্রহণকৃত বা অধিগ্রহণের জন্য নোটিশকৃত কি না, তা ইউনিয়ন ও উপজেলা ভুমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের অফিসের এলএ শাখা থেকে জেনে নিতে হবে।
১২. বিবেচ্য জমি কোনো আদালতে মোকদ্দমাভুক্ত কি না তা জেনে নিতে হবে।
১৩. জমিটি সরেজমিনে দেখে এর অবস্থান নকশার সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রেতার দখল নিশ্চিত হতে হবে।
১৪. সরকার-নির্ধারিত ফি দিয়ে স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এবং জেলা রেজিস্ট্রারের অফিসে তল্লাশি দিয়ে বিবেচ্য জমির হেবা, এওয়াজ ও বেচাকেনার সর্বশেষ তথ্য জেনে নিতে হবে।
১৫. প্রস্তাবিত জমিটি ঋণের দায়ে কোনো ব্যাংক বা সংস্থার কাছে দায়বদ্ধ কি না তা নিশ্চিত হতে হবে।
১৬. প্রস্তাবিত জমিতে যাতায়াতের রাস্তা আছে কি না তাও দেখতে হবে।
১৭. কোনো কোনো এলাকার জমিতে সরকারি কিছু বিধিনিষেধ থাকে; যেমন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার আড়াইশপ্রসাদ, বনখরিয়া, বিশিয়া কুড়িবাড়ি, বারইপাড়া, উত্তর সালনা, বাউপাড়া, বাহাদুরপুর ও মোহনা ভবানীপুর মৌজাসমূহের ব্যক্তিমালিকানাধীন বা সরকারি জমিতে শিল্প, কারখানা, পাকা ইমারতসহ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, কৃষি, দুগ্ধ ও মৎস্য খামার ইত্যাদি স্থাপন না করার জন্য একটি পরিপত্র জারি করা আছে। এসব বিষয়ে আগেই খোঁজখবর নিয়ে জমি কেনা উচিত।
১৮. মালিক কাউকে আমমোক্তারনামা বা অ্যাটর্নি নিয়োগ করেছেন কি না তাও দেখতে হবে।
১৯. জমির কাগজপত্রের শুদ্ধতা যাচাইয়ের দায়িত্ব যেকোনো আইনজীবীকে দিয়ে করালে তাঁর কাছ থেকে নিজে জমির অবস্থাবিষয়ক তথ্য ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।
লেখক "" আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট।
.jpg)