ব্রেইন স্ট্রোক

ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এ দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত মুখী সমস্যা হলেও মানুষ প্রায়ই সমস্যা দুটিকে গুলিয়ে ফেলে। ব্রেইনের সমস্যা হলে হূদরোগের হাসপাতালে যায়। এতে সময় নষ্ট হয়, রোগীর সমস্যা বেশি হয়, স্ট্রোক থেকে আরোগ্য লাভে দেরি হয়, এমনকী রোগীর মৃতু্য পর্যন্ত হতে পারে। মস্তিষ্কের কাজের ব্যাঘাত ঘটা, যেমন শরীরের একপাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনী শুরু হয়ে যাওয়া, কথা অস্পষ্ট থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া অথবা খাদ্য বা পানি গিলতে অসুবিধা হওয়া, এসবের যে কোন একটা বা এক সাথে একাধিক উপসর্গ হলেই স্ট্রোক হয়েছে ধরে নিতে হবে।

অপরদিকে হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে ব্যথা, বুকে চাপ ভাব হবে, শ্বাস কষ্ট হতে পারে, রোগী অস্বাভাবিক ঘামতে পারে বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। রোগীর নাড়িরচাপ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে পারে বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে বা রক্ত চাপ একদম শুন্যের কোঠায় পেঁৗছাতে পারে। এ থেকেই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না, রোগীর ব্রেইনে নয়, হার্টে সমস্যা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেক বিরল রোগের সাথে স্ট্রোকের সম্পর্ক আছে যা জনসাধারণের জন্য দুর্বোধ্য হতে পারে বিধায় উলেস্নখ করা হলো না। আমরা এখানে আমাদের আলোচনা মস্তিষ্কের স্ট্রোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব।

যারা ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ রোগে ভোগেন, যারা ধূমপায়ী, যাদের রক্তে চর্বি বেশি থাকে এবং যারা শরীরের ওজনের আধিক্যে ভোগেন, তাদের শরীরের অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের রক্তনালীগুলি সরু, শক্ত ও শুকিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতায় ভোগে। এর মধ্যে মস্তিষ্ক ও হূদযন্ত্রের রক্তনালীগুলিই প্রধান। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহার, হূদযন্ত্রের কিছু রোগ, কিছু রক্ত রোগ, বয়স, পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং রক্তনালীর চড়ার বিচু্যতির সাথেও স্ট্রোকের সম্পর্ক আছে।

স্ট্রোককে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

০০ মস্তিষ্কে সাময়িক রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত হয়ে স্ট্রোক: যা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়
০০ সাময়িক পক্ষাঘাত: এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো প্রকার দুর্বলতা না রেখেই ঠিক হয়ে যায়
০০ ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি লাভ করা স্ট্রোক: ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্রমান্নয়ে বাড়তে থাকে
০০ পরিনত স্ট্রোক: যা ক্রমান্নয়ে বাড়তে বাড়তে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে
০০ পূর্ণ স্ট্রোক: ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে এবং স্থায়ী পক্ষাঘাত করে ফেলে

বিভিন্ন ধরণের স্ট্রোকের ফলে যা হতে পারে:

০০ রক্তনালী ক্রমান্নয়ে সরু হয়ে বা চড়া পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা হার্ট বা রক্তনালী থেকে চড়ার বিচু্যতি হয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রবাহ বন্ধ হওয়া-এ ধরনের সমস্যাই সব চেয়ে বেশি, প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ
০০ মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়া-যাকে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বলা হয়, তা প্রায় ১০ ভাগ
০০ মস্তিষ্কের বাইরে কিন্তু মস্তিষ্কের আবরনীর ভেতরে রক্তক্ষরণ, যা প্রায় ৫ ভাগ

এছাড়াও মস্তিষ্কের রক্তনালীর বহিরাবরনী দ্বিক্ষন্ডিত হয়ে মস্তিষ্কের ব্যবহূত রক্তনালী গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্ক আবরনীগুলির মধ্যে বা বাইরে রক্তপাত হলেও স্ট্রোকের মত উপসর্গ হবে। উলেস্নখিত বর্ণনায় স্ট্রোক সম্বন্ধে আপনাদের একটি প্রাথমিক ধারনা নিশ্চয়ই হয়েছে। একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা উচিৎ যে, একজন স্ট্রোকের রোগী প্রায় স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে একজন চিকিৎসকের কাছে এসে বলতে পারেন যে- আমি আমার মাথায় অসুবিধা অনুভব করছি। আবার কারো ক্ষেত্রে নিম্নলিক্ষিত উপসর্গগুলিও হতে পারে। যেমন:

০০ হাঁটতে বা দাঁড়াতে অসুবিধা
০০ হঠাৎ করে অস্বাভাবিক আচরণ বা অস্বাভাবিক কথা বলা
০০ কথা বা কাজ কর্মে ভুল করা
০০ মাথা ব্যথা হওয়া
০০ শরীরের একপাশ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়া
০০ কথা জড়িয়ে যাওয়া
০০ কথা বলতে না পারা বা খাদ্য গিলতে অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি। অবস্থা আরো গুরুতর হলে, চেতনা লোপ থেকে রোগী গভীরভাবে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রোক সম্বন্ধে এই বর্ণনা জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য। এর পরের করনীয় অবশ্যই একজন চিকিৎসকের। অতএব রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিতে হবে, বিশেষ করে একজন স্নায়ুরোগ বা স্ট্রোক বিশেষজ্ঞের কাছে। ভুল করে বা অজ্ঞতাবশত: হূদরোগ বিশেষজ্ঞ বা হূদরোগ হাসপাতালে নয়। একজন স্ট্রোক বিশেষজ্ঞ রোগীকে পরীক্ষা করবেন। রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় করবেন। যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করবেন। রোগীর অন্যান্য রোগ নির্ণয় করবেন। সে সম্পকর্ীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং তার চিকিৎসাও দেবেন। কারণ পূর্বেই উলেস্নখ করা হয়েছে, অন্য অনেক রোগের সাথে স্ট্রোকের সম্পর্ক থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় রোগীকে নিতে পারলে স্ট্রোকের বিশ্বমানের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই দেয়া সম্ভব।

স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসার পর আসে রোগীকে পুনরায় সচল করে তোলা, যা সম্মিলিত থেরাপির মাধ্যমে করা সম্ভব। এর পরের প্রশ্ন, স্ট্রোক ও আনুসাঙ্গিক রোগের একটি সম্মন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ণয় ও প্রয়োগ করা। এর মধ্যে স্ট্রোক যাতে পুনরায় না হয় তার দিকে যথাযথ দৃষ্টি দেয়া। এর পর রোগীকে যতটা সম্ভব সুস্থ করে পারিবারিকভাবে পুনর্বাসন ও তার কার্যক্ষেত্রে পুনরায় ফিরে যেতে সাহায্য করা। মনে রাখবেন, কাজটি কিন্তু সহজ নয়। এ কাজে অনেক ধৈর্য্যের প্রয়োজন।

শেষ কথা: স্ট্রোক কি ভাল হয়ে যাবে:

১. আরোগ্য নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি রোগীকে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে তার উপর
২. কত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা কার্যক্রম ও ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে
৩. আরোগ্যলাভ আরো নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোথায়, কত বড় এবং কোন ধরণের স্ট্রোক হয়েছে এবং রোগী আর কী কী রোগে ভুগছে
৪. যে সব রোগীর প্রথম থেকে আরোগ্যলাভ শুরু হয়, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ণমাত্রায় না হলেও প্রায় স্বাভাবিক কার্যক্ষম করে তোলা যায়
৫. অনেক ক্ষেত্রে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্থ থেকেই জীবন কাটাতে বাধ্য হয়
৬. একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, একবার স্ট্রোক হলে পুনরায় তা হতে পারে
৭. যারা মৃতু্যবরণ করেন, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্ট্রোক পরবর্তী জটিলতার কারণেই মৃতু্যবরণ করেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: ব্যক্তিগতভাবে আমি কয়েকটি পরিস্থিতিতে স্ট্রোক হতে দেখেছি। তারমধ্যে:-

০০ বয়ষ্কলোকের অত্যধিক মানসিক যন্ত্রণা
০০ শল্য চিকিৎসা-বিশেষ করে চোখের শল্য চিকিৎসার পর
০০ হূদযন্ত্রের ভেতর টিউমার
০০ অনেক চেষ্টা করেও স্ট্রোকের কারণ খুঁজে না পাওয়া (যদিও অনেক সময় সব ধরনের পরীক্ষা করা আমাদের দেশে সম্ভব হয়না বা অনেক উচ্চমানের পরীক্ষাগারে করেও সূত্র মিলানো যায় না)
০০ রোগী মানসিক রোগের উপসর্গ নিয়ে এসেছেন কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল, মস্তিষ্কে বিশাল স্ট্রোক হয়েছে। পরবর্তীতে এ রোগী মারাও গেছেন।
০০ একজন স্ট্রোক রোগীকে দেখেছি, যাকে তার আত্মীয়-স্বজনরা মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ ও হাসাহাসির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

স্ট্রোকের রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিতে হবে, বিশেষ করে একজন স্নায়ুরোগ বা স্ট্রোক বিশেষজ্ঞের কাছে। ভুল করে বা অজ্ঞতা বশত: হূদরোগ বিশেষজ্ঞ হূদরোগ হাসপাতালে নয়।

প্রফেসর ডা: সিরাজুল হক

ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন না?ঘুমের সমস্যা কে চিরবিদায় দিন

নিদ্রাহীন রাত কাটানো যন্ত্রনার সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত।বিছানায় ঘুম না আসার যন্ত্রনায় এপাশ ও পাশ করা।
না ঘুমাতে পেরে চোখের নিচে কালি পড়া। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
নানারকম অশান্তি।বিষন্নতা।মনোযোগ কমে যাওয়া।আরো কত কি?

ডাক্তারের পিছনে লক্ষ টাকা ঢেলে ও উপকার পান নাই।ঘুমের ঔষুধ ছাড়া ঘুমাতে পারেন না।আপনার আশেপাশেই র‌য়েছে এমন অনেক মানুষ।
আপনি কি তাদের মত ঘুমাতে পারছেন না?

আশা করি আজ থেকে আর কোনদিন আপনার ঘুমের ওষুধ লাগবে না।
যখন-তখন ইচ্ছামত ঘুমাতে পারবেন।
শুধু আমার দেখানো নিচের নিয়ম টা ফলো করুন।হাতেনাতে ফলাফল দেখুন।


নিদ্রাহীন রজনী আর নয়।জেনে নিন কি করে বিছানায় শোয়া মাত্র চলে যাবেন ঘুম পরীদের দেশে।

১- প্রথমে আপনি যে বিছানায় ঘুমাবেন,তাকে পরিষ্কার করে নিন।একটা বিছানা ঝাড়ার ঝাড়ু দিয়ে সুন্দর করে ঝাড় দিয়ে নিন।

২- এবার টানটান করে বিছিয়ে নিন বিছানাটা।

৩- চিৎ হোয়ে আরাম করে শুয়ে নিন। যাদের চিৎ হ্য়ে শোয়ার অভ্যাস নেই ,তারাও চিৎ হয়ে শোবেন।এটা দু-তিন দিনের জন্য। এর আপনি আপনার ইচ্ছা মত আরাম করে শুতে পারবেন।

৪- এবার লম্বা একটা দম নেন।জোরে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ছাড়ুন।দু-তিন বার করেন।

৫- এবার চোখ খোলা রেখে আপনার কপালকে দেখতে চেষ্টা করুন।মানে কপালের দিকে তাকাতে চেষ্টা করবেন।

৬- এবার চোখটাকে ঐ অবস্থায় রেখে ছোটাকে বন্ধ করুন।

৭- আবার লম্বা একটা দম নেন।জোরে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ছাড়ুন।দু-তিন বার করেন।

৮- এখন নাক দিয়ে খুব ধীরে ধীরে দম নিয়ে খুব ধীরে ধীরে দম ছাড়ুন।
কয়েকবার করেন।

৯- কাজ শেষ।

১০- আর কিছুই করতে হবে না।


২-৩ বার করলেই আপনার আয়ত্তে এসে যাবে।

দাঁতের যত্নে ১৫ টিপস

দেহের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলতে সবাই খুবই আগ্রহী। কিন্তু এটাও সত্য, শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই আসল সৌন্দর্য নয়। তাকে আরো বেশি ফুটিয়ে তুলতে দাঁতের সৌন্দর্য অপরিহার্য। তাই দাঁতের যত্নে দরকার_

১. প্রতি ছয় মাসে একবার, বছরে দুইবার অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া।
২. নিয়মিত দাঁত স্ক্যানিং পলিশিং করানো।
৩. দাঁতে গর্ত দেখলে বা দন্তক্ষয় শুরু হলে তা ফিলিংয়ের মাধ্যমে পূরণ করিয়ে নেওয়া।
৪. সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা।
৫. নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা।
৬. ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা।
৭. সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করতে হবে, নচেৎ দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবার দাঁত ব্রাশের পর অবশ্যই মাড়ি ম্যাসাজ করতে হবে।
৮. দাঁতে পান-সুপারির দাগ জমে গেলে বা জন্মগতভাবে দাঁত হলুদ রংয়ের হলে দাঁতে অবশ্যই লেজার বি্লচ করাতে হবে। এতে দাঁত ঝকঝকে সাদা ও সুন্দর হবে।
৯. দাঁত শিরশির করলে অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ মোতাবেক ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেষ্ট ব্যবহার করতে হবে।
১০. আগে দাঁত পড়ে গেলে সেখানে বি্লচের মাধ্যমে ফাঁকা স্থান পূরণ করে নিতে হবে।
১১. উঁচু-নিচু দাঁতের সময় মতো চিকিৎসা করাতে হবে।
১২. দুধদাঁতের সমস্যাকে অবহেলা না করে ছোটবেলা থেকেই তার যথাযথ যত্ন ও চিকিৎসা করাতে হবে।
১৩. পান-সুপারি, তামাক, সিগারেট ইত্যাদি গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৪. মাঝে মাঝে হালকা লবণ গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে।
১৫. দাঁত ব্রাশ করার পরও যখন দুই দাঁতের মাঝে ময়লা থেকে যায় সেগুলো ডেন্টাল ফ্লসের মাধ্যমে পরিষ্কার করতে হবে।

আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্নে

ফিস্টুলা : কারণ ও চিকিৎসা

ফিস্টুলা বা ভগন্দর চিকিৎসা বিজ্ঞানের আদি থেকেই ডাক্তারদের কাছে পরিচিত। ফিস্টুলার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। নালীটি মলদ্বারের কোন কোন স্তর ভেদ করেছে বা কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে মূলত তার ওপর নির্ভর করছে এর জটিলতা। বিভিন্ন ধরনের ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিভিন্ন কৌশল ও পদ্ধতি। রোগীদের ধারণা, আমাদের দেশে ফিস্টুলা হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। শতকরা হার আমি বলতে পারব না। যার কারণে রোগীরা অপারেশনের কথা শুনলেই বলেন, স্যার দেখুন বিনা অপারেশনে করতে পারবেন কি না। কারণ অপারেশন আর কত করবেন এটি তো আবার হবেই। কিছু রোগী পেয়েছি যাদের দুই-তিনবার এমনকি পাঁচবার পর্যন্ত অপারেশন হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ আবার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফিস্টুলার কারণ কী এবং কী করে হয়?
এ রোগটির উৎপত্তি হয় মলদ্বারের বিশেষ ধরনের সংক্রমণের কারণে। মলদ্বারের ভেতরে অনেক গ্রন্থি রয়েছে, এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোড়া হয়। এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চতুর্দিকের কোনো এক স্খানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে। এ সংক্রমণের কারণে মলদ্বারে প্রচুর ব্যথা হয়। রোগী সারা দিন ব্যথায় কাতরাতে থাকে। পুঁজ বের হওয়ার পর ব্যথা কমতে থাকে। মলদ্বারের পার্শ্বস্খিত কোনো স্খানে এক বা একাধিক মুখ দিয়ে মাঝে মধ্যে পুঁজ বের হয়ে আসাকে আমরা ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলি। সাধারণ লোকের ধারণা, কৃমির বাসা থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে এ ধারণাটি একেবারেই অমূলক বলে প্রমাণিত হয়েছে। মলদ্বারের ক্যান্সার এবং বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগেও ফিস্টুলা হয়ে থাকে। মলদ্বারে যক্ষ্মার কারণেও ফিস্টুলা হতে পারে।
ফিস্টুলা কত প্রকার?
এটিকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন­ ১. সাধারণ, ২. মাঝারি জটিল ৩. অত্যন্ত জটিল।
সাধারণ ফিস্টুলা : এটি মলদ্বারের মাংসপেশির খুব গভীরে প্রবেশ করে না বিধায় চিকিৎসা সহজসাধ্য।
জটিল ফিস্টুলা : এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে এবং তা নির্ভর করে এর নালীটি মলদ্বারের মাংসের কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে এবং কতটা বìধুর পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাইরের মুখ পর্যন্ত এসেছে। এগুলোর চিকিৎসা সত্যিকার দু:সাধ্য। তারপর যদি এ নালী একের অধিক হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। এ রোগের অপারেশনে প্রধান প্রতিবìধকতা হলো সঠিকভাবে অপারেশন সম্পাদন করতে ব্যর্থ হলে রোগী মল আটকে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
ফিস্টুলা বা ভগন্দরের উপসর্গ কী কী?
এ রোগের লক্ষণ মূলত তিনটি : ১. ফুলে যাওয়া ২. ব্যথা হওয়া এবং ৩. নি:সরণ বা পুঁজ ও আঠালো পদার্থ বের হওয়া।
বেশির ভাগ রোগীই আগে মলদ্বারে ফোড়া হয়েছিল বলে জানান। ভেতরে ফোড়া হওয়ার জন্য ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। যখন এগুলো ফেটে মুখ দিয়ে কিছুটা পুঁজ বের হয়ে যায় তখন ব্যথা এবং ফুলা কমে যায়। নি:সরণ বা পুঁজ পড়া মাঝে মধ্যে হয়। কখনো কখনোই দুই-চার মাস এটি সুপ্ত থাকে। কখনো কখনো মলের সাথে পুঁজ ও আম পড়তে থাকে। সমস্যা একটানা না থাকার কারণে রোগীরা অনেক সময় ভাবেন যে, বোধ হয় সেরে গেছে। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের টোটকা ওষুধ বা হোমিওপ্যাথি খেয়ে মনে করেন, সম্ভবত ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু দু-চার মাস পর আবার যখন এই সমস্যা দেখা দেয় তখন আবার আমাদের কাছে এসে বলেন, স্যার এখন কী করা যায়?
চিকিৎসা কী?
৯০ শতাংশ পাইলস রোগীর কোনো অপারেশন দরকার নেই, আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ব্যথা ও অপারেশন ছাড়া এর চিকিৎসা করা সম্ভব। কিন্তু এই রোগে ১০০ ভাগ রোগীর অপারেশন দরকার। ফিস্টুলা বা ভগন্দর থেকে যখন পুঁজ পড়ে বা ব্যথা করে, তখন রোগী অপারেশন করতে রাজি হন। অভিজ্ঞ সার্জনরা বলে থাকেন, ফিস্টুলা অপারেশনের সমস্যা নিয়ে সার্জনদের যত বদনাম হয়েছে, অন্য কোনো অপারেশনের বেলায় ততটা হয়নি। এজন্য এই অপারেশন করতে সার্জনের এ বিষয়ে বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ ও ব্যুৎপত্তি থাকা উচিত। অপারেশনের আগে বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা রেকটাম ক্যান্সার বা মলাশয়ের যক্ষ্মা আছে কি না অবশ্যই পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। এ অপারেশনে দুই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ১. ভগন্দরের নালীটি কেটে ভেতরের পথটি খুলে দিতে হয় ২. ভগন্দরের নালীটি আগাগোড়া কেটে উপড়ে ফেলে দিতে হয়।
অপারেশন-পরবর্তী পরিচর্যা
অপারেশনের পর মলদ্বারের ভেতর কোনো পাইপ দেখার প্রয়োজন নেই। ছয় ঘন্টা পর স্বাভাবিক খাবার দেয়া যায়। ক্ষতস্খানটি ড্রেসিং করে সব সময় পরিষ্কার করে রাখা হবে। সাত দিন পরপর ডাক্তারের চেম্বারে আসা উচিত। যত দিন পর্যন্ত ঘা না শুকায় তত দিন প্রতিদিন দু-তিন বার ঢ়ময়্ দথয়ভ বা ভমহ দথয়ভ দেয়া উচিত। গরম পানিতে লবণ দিয়ে কোমর ডুবিয়ে মলদ্বারে ছেঁকা দিতে হয়।
ঝমশহলপ বা সাধারণ ফিস্টুলার ক্ষেত্রে দু-এক দিন পর হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া যায়। জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। ক্ষত শুকাতে সাধারণত ৪ থেকে ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগে। জটিল ফিস্টুলার আবার শ্রেণীভেদ আছে। ভিন্ন ভিন্ন জটিল ফিস্টুলা আবার বিশেষ পদ্ধতি ও প্রযুক্তি প্রয়োগে অপারেশন করতে হয়।
লেখক : বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : জাপান-বাংলাদেশ ফেন্সন্ডশিপ হাসপাতাল,
৫৫, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১৫০৮৭৬৬১, ০১৭২৬৭০৩১১৬

নি:সন্তান দম্পতিদের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

অধ্যাপক ডা. এম এ বাসেদ

চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রভূত উন্নতির সাথে সাথে নি:সন্তান দম্পতিদের চিকিৎসাও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। যেসব বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বìধ্যা স্ত্রীদের চিকিৎসায় সুফল লাভ করা যায়­ হাইড্রোটিউবেশন তাদের মধ্যে অন্যতম। উন্নত দেশগুলোতে ফেলোপিয়ান টিউবের কারণে প্রায় শতকরা ৩০ জন স্ত্রী স্খায়ীভাবে সন্তান জন্মদানে অক্ষম থাকে। আমাদের দেশে পারিপার্শ্বিক অবস্খার অবনতির জন্য দিনে দিনে এ ধরনের হতভাগ্য অক্ষম দম্পতির হার বেড়েই চলেছে। হাইড্রোটিউবেশন চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে দেশে শতকরা ২০ থেকে ২৬ ভাগ সন্তান জন্মদানে অক্ষম স্ত্রীকে সক্ষম করা সম্ভব।
দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে একটি পরিপক্ব ডিম ডিম্বকোষ থেকে বের হয়ে ফেলোপিয়ান টিউবের ভেতর দিয়ে জরায়ুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে, শুক্রকীটের সাথে মিলনের জন্য। প্রত্যেক মাসিকের সময় এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে­ যত দিন পর্যন্ত স্ত্রী গর্ভ লাভ না করে অথবা মাসিক একেবারে বìধ হয়ে না যায়। আমাদের দেশে মহিলাদের মাসিক সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর বìধ হয়ে যায়। যদি ডিমটি ৭২ ঘন্টার মধ্যে শুক্রকীটের সাথে মিলিত হতে না পারে, তবে কাáিক্ষত গর্ভ লাভ করতে সম্ভব হয় না। ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যে ডিম অথবা শুক্রকীটগুলোতে চলাফেরার বাধা অথবা টিউবের ভেতরে পরিবেশের কোনো তারতম্য থাকলে এই মিলনটি হতে পারে না এবং এই দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম থাকবে। হাইড্রোটিউবেশন চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রত্যেক মহিলার স্বাভাবিক অবস্খায় জরায়ুর দুই দিকে ফেলোপিয়ান টিউব থাকে। টিউবটির একটি অংশ জরায়ুর সাথে লেগে থাকে, অন্য অংশটি ডিম্বকোষকে ঘিরে রাখে, যাতে সময় মতো পরিপক্ব ডিমটিকে সহজেই টিউবের মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়। এর প্রধান কারণ হলো :
১. যদি টিউবের ভেতরে যাতায়াতের রাস্তা বìধ থাকে।
২. ডিম অথবা শুক্রকীটগুলোর চলাফেরার জন্য টিউবের ভেতরে পরিবেশের তারতম্য থাকে।
৩. যদি কোনো কারণে Ligation (বন্ধ্যা) করা হয়ে থাকে।
৪. Ectopic Pregnanc-তে ( যেমন : টিউবের ভেতরে সন্তান) প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে টিউব ফেটে যায়।
প্রথম ও দ্বিতীয় কারণের জন্য হাইড্রোটিউবেশন চিকিৎসাটি ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নি:সন্তান দম্পতিদের চিকিৎসা ও গবেষণা কেন্দ্রে বেশ কিছু শিশু জন্ম লাভ করেছে। Hystero salpingograpy-এর মাধ্যমে প্রথম দেখতে হবে টিউবগুলোর বর্তমান অবস্খা কী? ডিম ও শুক্রকীটগুলোর চলাফেরার জন্য টিউবের কোনো স্খানে বাধা আছে কি না অথবা কোন অংশে বাধা আছে তা নির্ণয় করতে হবে। তবে এই পরীক্ষাটি মাসিকের একটি নির্দিষ্ট সময়ে করতে হবে। যদি দেখা যায়, টিউবগুলোর কোনো অংশে বাধা আছে অথবা শেষপ্রান্তে এসে টিউবের মুখটির কিছু অংশ বìধ হয়ে আছে সে ক্ষেত্রে হাইড্রোটিউবেশন করতে হবে।
চিকিৎসাটি মোটেই ব্যয়বহুল নয়, কিন্তু সময়সাপেক্ষ। স্ত্রীকে নি:সন্তান দম্পতিদের চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয় না এবং হাইড্রোটিউবেশনের পর কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। এই চিকিৎসাটি তিন ভাবে সন্তানহীন দম্পতিকে সন্তানদানে সাহায্য করে।
১. টিউবের ভেতরের পরিবেশকে ঠিক করে রাখে।
২. আংশিকভাবে টিউবটি বìধ থাকলে তা খুলে দিতে সাহায্য করে।
৩. টিউবের কোন অংশ বìধ আছে তা নির্ণয় করা যায়।
নি:সন্তান দম্পতির চিকিৎসা ও গবেষণা কেন্দ্র কয়েক বছর ধরে আধুনিক পদ্ধতিতে সন্তানহীন দম্পতিদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। অন্যান্য পদ্ধতির মতো হাইড্রোটিউবেশন একটি উন্নতমানের চিকিৎসা­ যা সহজেই সন্তানহীন দম্পতির মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
লেখক : নি:সন্তান দম্পতিদের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, এন-২৩, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭
ফোন : ৮১১৫৯৩২, ০১৭১৪৩০১৯২৫

জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই

জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো টিউশন ফি নেই। এ কারণে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীই ইউরোপের এ দেশটিতে পড়তে যেতে আগ্রহী। জার্মানিতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্থাৎ এইচএসসি কিংবা এ লেভেল পাস হতে হয়।

ভর্তি ও ভিসা আবেদন
বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আবেদন পাঠানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে যোগ্য শিক্ষার্থীদের ঠিকানায় ‘অফার লেটার’ পাঠায়। অফার লেটার পাওয়ার পর ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে ঢাকার জার্মান দূতাবাসে।
ঠিকানা : ১৭৮ গুলশান এভিনিউ, গুলশান-২, ঢাকা। ফোন : ০২-৮৮৫৩৫২১।

শিখে নিন জার্মান ভাষা
জার্মানির অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই জার্মান ভাষায় পড়ানো হয়। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্মান ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য নূ্যনতম আইইএলটিএস স্কোর থাকতে হবে ৫.৫০। জার্মান ভাষা শিখে গেলে পড়াশোনা অনেক সহজ হবে। ঢাকার জার্মান কালচারাল সেন্টারে আছে জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ। ঠিকানা: বাড়ি-১০, রোড-৯ (নতুন), ধানমণ্ডি, ঢাকা। ফোন : ০২-৯১২৬৫২৫। অনলাইনে তথ্য জানতে পারবেন এই লিংকে www.goethe.de/ins/bd/dha/enindex.htm.

যেসব বিষয়ে পড়তে পারেন
ডিপ্লোমা, ব্যাচেলর, মাস্টার্স স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রচলিত ও চাহিদাসম্পন্ন প্রায় সব বিষয়েই পড়তে পারবেন জার্মানিতে। এখানকার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার সায়েন্স, ন্যাচারাল সায়েন্স, বিভিন্ন বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাকাউন্টিং, বিবিএ, এমবিএ, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং অ্যান্ড ই-কমার্স, এগ্রিকালচার ছাড়াও রয়েছে অনেক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ।

ভর্তি সুযোগ বছরে দুবার
জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া যায় বছরে দুবার। গ্রীষ্ম ও শীতকালীন সেশনে। সেশন দুটি শুরু হয় যথাক্রমে এপ্রিল ও অক্টোবরে। সেশন শুরুর অন্তত তিন মাস আগ থেকেই ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ভর্তি ও আবেদনের যোগ্যতাসহ দরকারি তথ্য জেনে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলে পরবর্তী সময়ে বেগ পেতে হবে না।

কেমন খরচ হবে
জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না। তবে পাবলিক হেলথ ফি বাধ্যতামূলক হওয়ায় বছরে ৬৫০ ইউরোর মতো খরচ হয়। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি বাবদ প্রতি সেমিস্টারে গুনতে হয় ৫০০ থেকে ৮০০ ইউরো। প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ ইউরো দিয়ে অনায়াসে থাকা, খাওয়া, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারবেন। উল্লেখ্য, এক ইউরো প্রায় ৯০ টাকার সমান।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ
ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বিদেশি শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পান। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের নিয়ম থাকলেও গ্রীষ্মের ছুটিতে তিন মাস ফুলটাইম কাজ করার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। জার্মান ভাষা জানা থাকলে রেস্টুরেন্ট, দোকান বা শপিং মলে কাজ করে ভালো আয় করা যায়।

আছে বৃত্তির সুযোগ
জার্মান সরকার ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও বৃত্তি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেয়। জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিসের ওয়েবসাইট (www.daad.de) থেকেই জানতে পারবেন বৃত্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য।

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব ঠিকানা
www.en.uni-muenchen.de
www3.uni-bonn.de, portal.mytum.de
www.uni-freiburg.de
www.uni-heidelberg.de
www.uni-goettingen.de
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.study-in-germany.de.

জার্মানিতে পড়াশোনার চার ধাপ

বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
যোগ্যতা, পছন্দ, আর্থিক সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য জানা যাবে।

কাগজপত্র প্রস্তুত ও আবেদন
একাডেমিক সার্টিফিকেট, মার্কশিট, আইইএলটিএস স্কোর সার্টিফিকেট, পাসপোর্টের ফটোকপি, মেডিক্যাল রিপোর্ট, আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র ও পাসপোর্ট আকারের ছবি প্রস্তুত রাখুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিসহ আবেদনপত্র পাঠানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগ্য শিক্ষার্থীদের ঠিকানায় ‘অফার লেটার’ পাঠাবে।

ভিসা আবেদন
অফার লেটার হাতে পাওয়ার পর ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে ঢাকার জার্মান দূতাবাসে। ভিসা আবেদনের দিকনির্দেশনা ও ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন জার্মান দূতাবাসে অথবা ভিজিট করুন অফিসিয়াল এই সাইটে www.dhaka.diplo.de।

জার্মান পেঁৗছার পর
স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ থাকে তিন মাস। জার্মানিতে পেঁৗছানোর পর প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মেয়াদ ফুরানোর আগেই নবায়ন করে নিতে হবে।