এইচ এস সি পরবর্তী উচ্চশিক্ষা

এইচএসসি পরবর্তী উচ্চশিক্ষা মাত্র HSC পরীক্ষা শেষ হল। তাই বলে কি অবকাশ যাপনের সুযোগ রয়েছে? না। কেননা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ক্যারিয়ারের স্বপ্ন পুরনের যাত্রা শুরু হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর পরই। আর মাত্র কয়েক মাস পরই শুরু হবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধ। মেধাবীদের লক্ষ থাকে দেশে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার এ নিয়েই আজকের আলোচনা।

উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র সমূহ : HSC পরবর্তী উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের রয়েছে অনেক ক্ষেত্র। যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্থান গ্রহণ করে। ক্ষেত্র সমূহের মধ্যে রয়েছে

  1. প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
  2. মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
  3. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
  4. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
  5. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় : উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর বিজ্ঞান বিভাগের অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়ে প্রকৌশল শিক্ষার সুযোগ আশানুরূপ প্রসার লাভ করেনি। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সাইল, লেদার, কৃষি মেরিন প্রভৃতি টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। তারপর ও প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন সম্মৃদ্ধ মেধাবীদের সংখ্যা কম নয় বরং বেশি। তবে চাইলেই তো হবে না এখানে নিজের আসন স্থায়ী করতে ভর্তি যুদ্ধে অবতীর্ন হতে হবে। তার জন্য নিতে হবে কঠিন প্রস্তুতি। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ সমূহ : বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে রযেছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সাইন্স ও আর্কিটেকচার। এগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশলে ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং নেই তবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ রয়েছে যা অন্য কোথাও নেই। খুলনা ও রাজশাহীতে স্থাপত্য বিভাগ নেই। তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল মেটেরিয়াল অ্যান্ড মেটালজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও আরবান অ্যান্ড রিজিওলাল প্লানিং রয়েছে। এগুলো অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নেই। ভর্তির যোগ্যতা ও পরীক্ষা পদ্ধতি : ভর্তি যোগ্যতা প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হলেও পরীক্ষা পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় :
বুয়েটে ভর্তি হতে হলে প্রার্থীর GPA- ৪.০০ থাকতে হবে। প্রার্থীর গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজিতে মোট GPA ১৯ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক/আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

O লেভেল ও A লেভেলের শিক্ষার্থীদের জন্য O লেভেল পরীক্ষায় কমপক্ষে পাঁচটি বিষয়ে (গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও ইংরেজি সহ) গড়ে “বি” গ্রেড এবং অ লেভেল পরীক্ষায় গণিত পদার্থ ও রসায়নে কমপক্ষে দুটিতে অ ও বাকি বিষয়ে ই হলেও চলবে।

পরীক্ষার পদ্ধতি : গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ে প্রশ্নমানের ৫০% Objective type হবে। এ অংশের প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য একটি সঠিক উত্তরের এক চতুর্থাংশ নম্বর কাটা হবে। বাকি অংশের প্রশ্ন ও মূল্যায়ন প্রচলিত পদ্ধতিতে হবে। সময় নির্ধারিত থাকবে ৩ ঘন্টা। এর মধ্যে পদার্থ রসায়ন ও গণিত বিষয়ে ১৮০ এবং ইংরেজিতে ৬০ নম্বর বরাদ্ধ থাকবে। বিস্তারিত যোগাযোগের ঠিকানা

ফোন ৮৬১৬৮৩৩-৩৮
ওয়েব-www.buet.edu

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :
এখানে ১ম বর্ষ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, কোর্সে ৬টি বিভাগে ৫৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি যোগ্যতা অনেকটা বুয়েটের মতই। তবে এখানে প্রার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পদার্থ রসায়ন ও গণিতে ৩.৫ এবং ইংরেজিতে ৩.০০ সহ সর্বমোট GPA ন্যূনতম ১৭ থাকতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি : পদার্থ গণিত রসায়ন এবং ইংরেজি বিষয়ের উপর ২.৩০ ঘণ্টা ব্যাপি ৫০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা হবে।

যোগাযোগ ফোন ০৪১-৭৬৯৪৬৮-৭৫
ওয়েব-www.kuet.ac.bd

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :
চুয়েটে ৩টি অনুষদের অধিনে ৫৭০টি আসনে ভর্তি করা হবে ভর্তি যোগ্যতার আগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ে প্রত্যেকটিতে আলাদা ভাবে GPA-৩ এবং গণিত, পদার্থ ও রসায়নে GPA-৪ পেতে হবে। মোট GPA ন্যূনতম ১৫ থাকতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি : পদার্থ, রসায়ন, গণিত, এবং ইংরেজিতে মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ৩৫০ MCQ এবং ৩৫০ লিখিত। সময় থাকবে ৩ ঘণ্টা।

যোগাযোগ
ওয়েব-www.cuet.ac.bd

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :
রুয়েটে ৩টি অনুষদের অধীনে ৪৮৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। ভর্তি যোগ্যতা কুয়েটের অনূরূপ।

পরীক্ষা পদ্ধতি : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে মোট ৭০০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। তা সম্পূর্ণই লিখিত। গণিতে ২০০ পদার্থ ২০০ রসায়ন ২০০ ইংরেজি ১০০।

যোগাযোগ ফোন : ০৭২১-৭৫০৭৯৮
ওয়েব- www.rued.ac.bd

সরকারি মেডিকের কলেজ :
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই মেডিকেলের স্থান বা অনেকে প্রকৌশলের থেকে মেডিকেলকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভূক্ত ১৮টি কলেজ রয়েছে, সবগুলোর একই প্রশ্ন ও একইদিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ভর্তি যোগ্যতা : বিজ্ঞান শাখায় SSC/দাখিল ও HSC/আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উভয় পরীক্ষায় ৮.০০ পেতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি : মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানে ২০ রসায়ন বিজ্ঞানে ২৫ জীববিজ্ঞানে ৩০ ইংরেজি ১৫ সাধারন জ্ঞান ১০। MCQ পদ্ধতিতে সময় ১ ঘণ্টা।

পাবলিক বিশ্বাবিদ্যালয় :
প্রকৌশল ও মেডিকেলের পর সব শিক্ষার্থীরেই দৃষ্টি থাকে পাবলিকের প্রতি। এদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার পদ্ধতি ও ভর্তির যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় :
ক ইউনিট (বিজ্ঞান অনুষদ) উচ্চ মাধ্যমিক/আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান/কৃষি বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ এবং মাধ্যমিক/দাখিল ও উচ্চ মাধ্যমিক/আলিম পরীক্ষায় মোট GPA ৮.০ পেতে হবে। যে সব বিষয়ে ভর্তি হওয়া যাবে- ফলিত পরিসংখ্যান, পদার্থ বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার সাইন্স, রসায়ন, ফলিত রসায়ন, গণিত পরিসংখ্যান, ভূগোল ও পরিবেশ, ভূ-তত্ত্ব, উদ্ভিদ, প্রাণীবিদ্যা, ফার্মাসি প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, মৃত্তিকা, মৎস্যবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, অনুজীব, পুষ্টি ও খাদ্য, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি, অ্যাকুয়া কালচার ও ফিসারিজ। পরীক্ষা গঈছ সময় ১ ঘন্টা ৪৫ মি. পূর্ণমান- ১২০।

খ ইউনিট এস এসসি/দাখিল ও এইচ এসসি/আলিমে ৬.৫ পেতে হবে।
যে সব বিষয়ে ভর্তি হওয়া যাবে- ইংরেজি, আরবী, উর্দূ, ফারসী, সংস্কৃত ও পালি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী স্টাডিজ, দর্শন, নাট্যকলা, বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞান। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি সমাজবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, শান্তি ও সংঘর্ষ, উইমেন স্টাডিজ, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার উন্নয়ন। আইন অনুষদে- মনোবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, সমাজকল্যাণ। পরীক্ষা পদ্ধতি MCQ পূর্ণমান ১২০ সময় ১ঘণ্টা।

গ ইউনিট : এইচএসসি পর্যায়ে বাণিজ্য, ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী-ই আবেদন করতে পারবে এবং এসএসসি ও এইচএসসি-তে ৭.৫০ পেতে হবে। যে সব বিষয়ে পড়া যাবে- একাউন্টিং ফিন্যান্স, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, ব্যাংকিং, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এবং টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। পরীক্ষার পদ্ধতি গ.ঈ.ছ. সময় ১ ঘণ্টা পূর্ণমান- ১২০।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট বিন্যাস পুরোপুরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত।

এখানে ক ইউনিটে (বিজ্ঞান অনুষদ) আছে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন গণিত, পরিসংখ্যান, প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান এবং ভূগোল ও পরিবেশ। ভর্তির যোগ্যতার দিক দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক,খ,গ ও ঘ ইউনিটের ন্যূনতম মাধ্যমিক/দাখিল ও উচ্চ মাধ্যমিক/আলিম উভয় পরীক্ষায় GPA২.৫০ সহ মোট GPA ৬.০০। এবং বাকি গুলোতে ২.৫ সহ মোট ৫.০ GPA লাগবে। পরীক্ষার পদ্ধতি ‘ক’ ইউনিটের ১২০ নম্বরের। পদার্থ-৩০, রসায়ন ৩০, গণিত/জীববিজ্ঞান-৩০ বাংলা/ইংরেজি ৩০।

‘খ’ ইউনিটে (কলা এবং সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ) রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, ইসলামের স্টাডিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ। পরীক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে বাংলা/A লেভেল ইলেকটিভ ইংলিশ ৩০, ইংরেজি ৩০ ,সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ /আন্তর্জাতিক/ মৌলিক বিষয়) = ৩০+৩০ = ১২০ নম্বর।

গ ইউনিটে রয়েছে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং। পরীক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, ব্যবসায়নীতি-৩০ এবং হিসাব বিজ্ঞান ৩০ = ১২০ নম্বর।

ঘ ইউনিট হল বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট। এর পদ্ধতি খ ইউনিটের মতই। MCQপদ্ধতিতে ১২০ নম্বরে পরীক্ষা হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় :
এখানে বিভিন্ন অনুষদভেদে ভর্তির যোগ্যতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন- ক ও খ ইউনিট (গণিত ও পদার্থ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদ) এখানে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৩.০০ পেতে হবে। গ ইউনিট (কলাও মানবিক অনুষদ) এসএসসি ও এইচএসসি উভয়টিতে সর্বনিম্ন ২.৫০ পেতে হবে। খ ইউনিট সামাজিক বিজ্ঞানের জন্যও ২.৫০ পেতে হবে।

ঙ লেভেল’র ৩টি বিষয়ে ন্যূনতম সি ও অ লেভেলে ২টি বিষয়ে সি পেতে হবে। এখানেও বর্তমানে MCQপদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় :
এখানেও ভর্তি যোগ্যতায় ক ইউনিট (বিজ্ঞান অনুষদ বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি/আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (৪র্থ বিষয় ছাড়া) সর্বমোট জি.পি.এ-৬ ও কোন পরীক্ষায় ২.৫০ এর উপরে হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা-১০, ইংরেজি ১৫, পদার্থ/রসায়ন গণিত/জীববিজ্ঞান/ পরিসংখ্যান-৭৫ = ১০০ নম্বর। সময় ১ ঘণ্টা। খ,গ,ঘ,ঙ ইউনিটে (কলা, বানিজ্য, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) যে সকল শিক্ষার্থী এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম পরীক্ষায় ৫.৫ পেয়েছে (অতিরিক্ত ছাড়া) তবে কোন পরীক্ষায় জি.পি.এ-২.৫০ এর নিছে নয়। চ ইউনিটে এখানে দুটি বিষয় রয়েছে ১. BSCঅনার্স ইন ফরেস্টি ২. BSC অনার্স ইন ইনভায়রনমেন্ট । SSC/দাখিল ও বিজ্ঞান/কৃষি বিজ্ঞান শাখায় পদার্থ, রসায়ন, গণিত জীববিদ্যা বিষয়ক এবং এইচএসসি/আলিম (৪র্থ বিষয় বাদে) জিপিএ-৬.০০ পেতে হবে। কোন পরীক্ষায় জিপিএ- ৩.০০ এর নিচে নয়।

ছ ইউনিটে (সামুদ্রিক বিজ্ঞান) এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম, বিজ্ঞান/কৃষি বিজ্ঞান শাখায় (৪র্থ বিষয় বাদে) ৬.০০ পেতে হবে এবং কোন পরীক্ষায় ৩ এর নিচে নয়।

জ ইউনিটে (জীববিজ্ঞান) এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম বিজ্ঞান/কৃষি বিজ্ঞান শাখায় (৪র্থ বিষয় বাদে) ৬.০০ পেতে হবে। কোন পরীক্ষায় ২.৫০ এর নিচে নয়। ভর্তি পরীক্ষা MCQ পদ্ধতিতে ক ইউনিটের মতই হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় :
ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন পত্র (www.ru.ac.bd) জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হবে।

ভর্তির যোগ্যতা : বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম (৪র্থ বিষয় বাদে) মোট জি.পি.এ-৬.৫ পেতে হবে। তবে দুইটাতে আলাদা ভাবে ন্যূনতম ৩.০০ পেতে হবে। মানবিক ও বাণিজ্য শাখার জন্য এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম (৪র্থ বিষয় বাদে) ৫.৭৫ লাগবে। তবে আলাদাভাবে ২.৫০ পেতে হবে। ঙ লেভেল অ লেভেল পরীক্ষায় পাসকৃত শিক্ষার্থীদেরকে উভয় পরীক্ষায় নূন্যতম সি গ্রেড পেতে হবে।

পরীক্ষা কতৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে সংক্ষিপ্ত রচনামূলক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিতে পারবে। (হিসাব বিজ্ঞান ব্যতিত) অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষা গ.ঈ.ছ পদ্ধতিতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় :
বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল : এর অন্তর্ভুক্ত বিষয় হল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ডিসিপ্লিন, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ও গণিত ডিসিপ্লিন খ. স্থাপত্য ডিসিপ্লিন এবং নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন।

জীববিজ্ঞান স্কুল : এখানে রয়েছে এগ্রোটেকনলজী, বায়োটেকনলজি এন্ড জেনেটিক, এনভায়রনমেন্ট সাইন্স, ফিসারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনলোজি, ফরেস্টি এন্ড টেকনলোজী, ফার্মেসী এবং সয়েল সাইন্স ডিসিপ্লিন। এখানে ভর্তি হতে হলে প্রার্থীর এইচএসসি/আলিম ৪র্থ বিষয়সহ জি.পি.এ-৩ থাকতে হবে এবং প্রার্থীর গণিত, পদার্থ, রসায়নে গড়ে ২.৭৫ ও আলাদাভাবে ২.৫ থাকতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি ক- গ্রুপের গণিত ১০০, পদার্থ ১০০, ইংরেজি ৪০, সাধারণ জ্ঞান ৬০, (উভয় গ্রুপ) খ- গ্রুপের ডিজাইন ও মুক্তহাস্ত অংকন ১০০।

জীববিজ্ঞানের পরীক্ষা পদ্ধতি মোট ১০০ নম্বরের । জীববিজ্ঞান ২৫, পদার্থ ১৫, রসায়ন ১৫, গণিত ১৫, ইংরেজি ১৫ ও সাধারন জ্ঞান ১৫।
অন্যান্য বিষয় যেমন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, ইংরেজি ডিসিপ্লিন,, অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন।
ব্যবসায় প্রশাসনে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :
এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিমে একত্রে (৪র্থ বিষয় বাদে) বিজ্ঞান শাখায় ৭.০০, বানিজ্যে ৬.৫, মানবিকে ৬.০০ পেতে হবে। তবে উভয় পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্যে আলাদাভাবে ৩.০০ এবং মানবিকে ২.৫ পেতে হবে।

ভর্তি যোগ্য বিষয় কম্পিউটার সাইন্স, কমিউনিকেশন এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজী, গণিত, ইংরেজি, অর্থনীতি, লোক প্রশাসন, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা ও মার্কেটিং। পরীক্ষা পদ্ধতি MCQ সময় ১ ঘণ্টা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় :
ভর্তির যোগ্যতা এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম পরীক্ষায় মোট বিজ্ঞানে ৭.০০, মানবিকে ও ব্যবসায় ৬.০, কারিগরি ও অন্যান্য ৬.৫ হতে হবে। ভর্তি যোগ্য বিষয় সমূহ বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান, কম্পিউটার সাইন্স এবং সঙ্গীত।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় :
এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয় বাদে) বিজ্ঞান শাখায় পৃথকভাবে জিপিএ-৩.০০ সহ মোট জিপিএ-৬.৫ পেতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় (৪র্থ বিষয় বাদে) পৃথকভাবে জিপিএ-২.৫ সহ মোট ৫.৫ পেতে হবে।
ভর্তি যোগ্য বিষয় গণিত, কম্পিউটার সাইন্স, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রশাসন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়:
১৯৯২ সালে ৩৭নং অ্যাক্ট অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর অধীনে ১৪৫টি কলেজে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বুয়েট, মেডিকেল, ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দৃষ্টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের কোর্স গুলো হল বি.এ/ বিএসএস /বিবিএস / বিএসসি / বিকম অনার্স।

ভর্তির যোগ্যতা : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন প্রার্থীকে উভয় পরীক্ষাতেই আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ-২.০০ পেতে হবে। ঙ লেভেল এবং অ লেভেল পরীক্ষায় মোট ৬টি বিষয়ের মধ্যে কমপক্ষে ৪টি বিষয়ে “বি” গ্রেড এবং অন্য ২টি বিষয়ে “সি” গ্রেড পেতে হবে।

পরীক্ষার পদ্ধতি : বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দিনে অভিন্ন প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষা হয়। শিক্ষার্থী যে কলেজে ভর্তি-হতে চায় সে কলেজ থেকে ঐ বিভাগের ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার দিন ঐ বিভাগ সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পরীক্ষা দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা ২৫, ইংরেজি ২৫ ও উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় পঠিত বিষয়ে ২৫ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরের গঈছ পদ্ধতির প্রশ্ন হবে। তবে ইংরেজি ও বাংলায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৮ নম্বর পেতে হবে।